বিসিএস প্রস্তুতির পোস্টমর্টেম - বিষয়ঃ বাংলা
বিসিএস প্রিলিতে ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় কোন বিষয়ে কত
নম্বরের প্রশ্ন করা হবে তা লক্ষ্য করুন নিচের ছবিতে।
তবে নতুন সিলেবাস হলেও বিষয়ভিত্তিক এই প্রশ্নগুলো আগেও ছিল তবে এতটা স্পষ্ট করে উল্লেখ ছিল না। এখন উল্লেখ আছে। পার্থক্য এইটাই। সবার উচিত হবে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করা।
সরাসরি সিলেবাস বিশ্লেষণে যায়ঃ
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – ৩৫ নম্বর
এই অংশে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বিসিএস এ ভালো ফলাফল করার জন্য বাংলায় ভালো করার গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলার সিলেবাসে দুটি অংশ।
ক) ভাষা – ১৫ নম্বর
খ) সাহিত্য - ২০ নম্বর
ভাষাঃ ১৫ নম্বর
বিষয়সমূহঃ প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্যশুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস।
ক) প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্যশুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীত শব্দঃ
‘ভুল-শুদ্ধি’
এবং ‘পরিভাষা’ পূর্বের লিখিত সিলেবাসে ছিল। তাই লিখিত এর যেকোন গাইড দেখতে
পারেন। অবশ্য লিখিত পরীক্ষাতে যে সব বাক্যশুদ্ধি ও পরিভাষা এসেছিল, সেগুলো
আগে দেখুন। সিলেবাসে ‘বানান ও বাক্যশুদ্ধি’, ‘সমার্থক ও বিপরীত শব্দ’এর
জন্য এইচ, এস, সি লেভেলের ব্যাকরণ বই টা দেখতে পারেন। সেই সাথে সিলেবাসে
উল্লেখ না থাকলেও নবম দশম শ্রেণীর বোর্ডের ব্যাকরণ বইয়ে কয়েকটা অধ্যায়
দেখতে পারেন। হায়াৎ মাহমুদের বইতেও এই সম্পর্কিত বিস্তারিত দেওয়া আছে।
ণ-ত্ব বিধান, ষ-ত্ব বিধান, বাক্য (বাক্যের গুণ মানে আকাংক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা), বচনের অধ্যায়ের কিছু নিয়ম আছে।
খ) ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি, সমাসঃ
এই টপিকগুলো নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ডের ব্যাকরণ বই থেকে পড়া উচিত। কিন্তু সিলেবাস কি এইটুকুতেই যথেষ্ট? একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন। সিলেবাসে ‘শব্দ’ উল্লেখ আছে। এর অর্থ কি? শুধু শব্দ অধ্যায় নাকি শব্দতত্ত্ব বুঝিয়েছে! আবার প্রত্যয়, সমাস এগুলো উল্লেখ আছে। এইগুলো দিয়ে কিন্তু শব্দ তৈরি হয়। কিন্তু উপসর্গ, বচন, লিঙ্গ এগুলো উল্লেখ নাই। এইগুলো আবার শব্দতত্ত্বে অধীনে। পূর্বের প্রিলিমিনারী পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে অনুমান করা যায় যে, উপসর্গ, বচন এইগুলো থেকে অনেক প্রশ্নই এসেছে। তাই এখানে কি পড়বেন একটু চিন্তাভাবনার বিষয় আছে! তবে সহজ সিদ্ধান্ত হচ্ছে, সিলেবাসে সরাসরি যে সব অধ্যায় উল্লেখ আছে সেগুলো আগের পড়ুন এবং সেই বিষয়ক অন্য অধ্যায়গুলো পড়ে প্রশ্ন কাভার করুন।
ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ স্থান, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দ, শব্দের শ্রেণীবিভাগ (উৎপত্তি, গঠন ও অর্থ অনুসারে), পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস এগুলোর জন্য নবম দশম শ্রেণীর বোর্ড ব্যাকরণ বইটাতে আলাদা আলাদা অধ্যায় আছে। আর এর সাথে সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো বাদ দেয়া যাচ্ছে না।
এর বাইরে যে টপিকগুলো পড়তে হবে। তা হলো : এককথায় প্রকাশ, বাগধারা, কারক ও বিভক্তি
এই টপিকগুলো যে কোনো বই থেকে পড়তে পারেন তবে সবার প্রথমে এগুলো নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই থেকে পড়তে হবে। এরপর হায়াৎ মাহমুদের বই/ সৌমিত্র শেখর/ শীকর/ অগ্রদূত/ যেকোনো সিরিজ থেকে পড়তে হবে।
১) বাংলা ভাষার ইতিহাস, বাঙ্গালা ও বাঙ্গালী, বাংলা ভাষা ও লিপি
২) বাংলা ভাষার যুগ বিভাগ
i) প্রাচীন যুগ ও বাংলা সাহিত্যঃ চর্যাপদ
ii) মধ্যযুগ ও বাংলা সাহিত্যঃ
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলী, মুসলিম সাহিত্য, অনুবাদ সাহিত্য, গীতিকা
iii) আধুনিক যুগ ও বাংলা সাহিত্যঃ
গদ্যের কথা, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এবং আধুনিক যুগের কবি লেখকদের জীবনী।
৩) আধুনিক কবি-লেখকদের জীবনী ও অন্যান্য বিষয়ে পড়তে হবে।
নিচে কবি লেখকদের তালিকা দেওয়া হলঃ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্রপাধ্যায়, মাইকেল মধূসুদন দত্ত, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দীনবন্ধু মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দিন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, ফররুখ আহমদ, কায়কোবাদ, শরতচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আল মাহমুদ, আল ফজল, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবুল মনসুর আহমদ, আবুল হাসান, আহসান হাবীব, জহির রায়হান, জীবনান্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরী, প্যারীচাঁদ মিত্র, মানিক বন্দোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, শওকত ওসমান, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলি, সেলিম আলদিন, শামসুর রহমান, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, নির্মলেন্দু গুণ, দিলারা হাসেম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ুন কবির, হুমায়ুন আহমদ, জাহানারা ইমাম, রাবেয়া খাতুন, কবীর চৌধুরী, রাজিয়া খান, গোলাম মোস্তফা, সিকান্দার আবু জাফর, কাজী মোতাহার হোসেন, সুকান্ত ভট্রাচার্য, তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়।
এই সকল কবি-লেখকদের যে বিষয়টি পড়তে হবে তা হলঃ
জন্ম-মৃত্যু সাল, জন্মস্থান, উল্লেখযোগ্য রচনা, সম্পাদিত পত্রিকা, পত্রিকার নাম, ছদ্মনাম, উপাধি, প্রাপ্ত পুরষ্কার।
এছাড়া আরো যা পড়া উচিত, উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্বভিত্তিক রচনা, উপন্যাস, কাব্য, ছড়া।
বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ, ভ্রমণ কাহিনী, প্রহসন, নাটক নাম এবং এগুলোর রচনাকারীদের নাম।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম যা তাও পড়তে হবে। যেমন প্রথম নাটক, প্রথম উপন্যাস, প্রথম সার্থক উপন্যাস। এইরূপঃ
প্রথম গীতিকাব্য, প্রথম বাংলা অনুবাদ, প্রথম সামাজিক নাটক, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকী, প্রথম ট্রাজেডি নাটক, প্রথম একুশের কবিতা, প্রথম নাট্যকার, প্রথম মহিলা কবি, প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক, প্রথম মুক্তিযুদ্বভিত্তিক রচনা, প্রথম রামায়ণ অনুবাদ কারী ইত্যাদি।
২০ টি প্রশ্ন যেমন হয় তার একটি নমুনা হল
প্রাচীন সাহিত্য থেকে ২ টি
মধ্যযুগ থেকে ৩ টি
আধুনিক যুগের ১৫ টি [কবি লেখকদের জন্ম-মৃত্যু তারিখ/সাল, স্থান, উল্লেখযোগ্য রচনা, ছদ্মনাম/উপাধি, রচনাবলী, প্রাপ্ত পুরষ্কার, সম্পাদিত পত্র-পত্রিকার নাম, পত্রিকার ধরন, উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্থ, পুরষ্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ ইত্যাদি]
আধুনিক যুগের কবি লেখকদের মধ্যে অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ এবং কাজী নজরুল ইসলাম থেকে ১ টি প্রশ্ন আসেই।
আর অন্যন্য লেখকদের থেকেও প্রশ্ন আসে। কিন্তু আমি উপরে যেই কবি-সাহিত্যিকদের তালিকা দিলাম তাদের রচনাবলী ও জীবনী পড়তে হবে। যেমন দীনবন্ধুমিত্রের রচনা নীল দর্পন আমাদের সিলেবাসে ছিলনা তাই অনেকেই দীনবন্ধু মিত্রের জীবনী পড়বে না ... কিন্তু উনার সম্পর্কেও বিগত বছরগুলোতে প্রশ্ন এসেছে একাধিকবার।
বিসিএস প্রিলিতে বাংলা বিষয়ের প্রয়োজনীয় বই সমূহ:
১) নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ
২) হায়াৎ মাহমুদের বাংলা ব্যাকরণ বই
৩) সৌমিত্র শেখরের “সাহিত্য জিজ্ঞাসা”
৪) মোহসীন নাজিলার “শীকর”
৫) রানা ঘোষ এর “সাহিত্যের কথা”
৬) হুমায়ূন আজাদের “লাল নীল দীপাবলি”
৭) নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা ১ম পত্র বই (শুধু লেখক পরিচিতি)
তবে চেষ্টা করবেন প্রিলি ও লিখিত একসাথে প্রস্তুতি নিতে। কারণ এখানের অনেক বিষয় প্রিলি ও লিখিততে একই সিলেবাস
ধন্যবাদ সবাইকে
পরবর্তী লেখা হবে ইংরেজি বিষয় নিয়ে।


No comments